Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
আমের রাজধানীখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সজনে ডাটার বাম্পার ফলনে খুশি গৃহিণীরা

আমের রাজধানীখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সজনে ডাটার বাম্পার ফলনে খুশি গৃহিণীরা

নাদিম হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :         বানিজ্যিকভাবে চাষাবাদ না হলেও এই সময়ে কাঁচাবাজারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সবজি সজনে ডাটা। এবছর আমের রাজধানীখ্যাত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে সজনে ডাটার বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে দেখভালসহ বিক্রি করে সংসারে অবদান রাখতে পারায় খুশি গৃহিণীরা। জেলার কোথাও বানিজ্যিকভাবে সজনে ডাটার চাষাবাদ না হলেও রাস্তার ধারে, ফাঁকা জায়গায়, বাড়ির আঙিনায়, আমবাগানের মাঝে ও জমির সীমানায় সজনে গাছের থোকায় থোকায় ঝুলছে সজনে ডাটা। বাম্পার ফলনের পাশাপাশি দাম ভালো থাকায় খুশি গৃহিণী, বাড়ির কর্তা ও সবজি বিক্রেতারা। জেলার সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, এখনো কিছু গাছে সজনে ডাটার ফুল ফুটে আছে। তবে প্রায় ৯০ শতাংশ গাছেই ঝুলছে সজনে ডাটা। লাদনা (সবুজ রঙয়ের দেশি জাত), দেশি ও রাজশাহীর (চিকন ও লম্বা) এই ৩ জাতের সজনে ডাটা দেখা যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের পলশা মিশন বাজারের সবজি বিক্রেতা সামশুল আলম জানান, এবছর সজনে ডাটার বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন পর্যন্ত দামও ভালো রয়েছে। বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বাজারে সজনে ডাটা বিক্রি হয়েছে। মাত্র ৬-৭ দিন আগেই ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। ক্রেতাদেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সজনে ডাটায়। তবে যেহেতু ফলন ভালো, তাই কয়েকদিন পর আরো দাম কমতে পারে বলেও জানান তিনি।

সজনে ডাটা সাধারণ বাড়ির আঙিনায় হয়ে থাকে।আর এটির সার্বিক দেখভালো করার দায়িত্ব থাকে গৃহিণীদের উপর। এমনকি গাছ থেকে পেড়ে পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রিও করেন তারাই। নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের আমলাইন গ্রামের গৃহিণী নাজনীন বেগমের বাড়ির সীমানা ও গলিতে ৫টি মাঝারি সাইজের সজনে গাছ রয়েছে। তিনি বলেন, এবছর গাছে পরিপূর্ণ হয়ে আছে সজনে ডাটায়। একদিকে বাম্পার ফলন, অন্যদিকে দামও ভালো। এখন পর্যন্ত এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছে দুই দফায় ৭ কেজি সজনে ডাটা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। ধারণা করছি, গাছে যে পরিমাণ ফলন রয়েছে তাতে আরো ৩০-৩৫ কেজি সজনে ডাটা হতে পারে।


ভোলাহাটের আরেক গৃহিণী জেমী খাতুন জানান, বাড়ির আশেপাশে ৪টা গাছ থাকায় গত কয়েকদিন থেকে তরকারির চিন্তা করতে হয় না। সজনে ডাটা রান্নার পাশাপাশি, এমনকি পাশের দোকানে বিনিময় করে অন্য তরকারি নেয়। এবছর সজনে ডাটার কিছুটা আগাম ফলন ও কোন রোগ-বালাই না থাকায় এমন বাম্পার ফলন হয়েছে। এমনকি সজনে ডাটা বিক্রি করে আঁচলে কিছু টাকা রাখতে পারছি, যা সংসারের অন্য কাজে ব্যবহার করতে পারছি।

কৃষক আপন রেজা বলেন, সজনে ডাটার কল্যাণে মেহমানদারীও হয় আমাদের। যেমন দুই মেয়ে ও এক ছেলের শশুর বাড়িতে একবার নিজ গাছের সজনে ডাটা পাঠানো হয়ে গেছে৷ এছাড়াও অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতেও নিয়মিত সজনে ডাটা পাঠায়। এতে তাদের সাথে সম্পর্কটাও মধুর হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ নিউ মার্কেটের একজন ক্রেতা জামাল উদ্দীন বলেন, এবছর প্রায় ১ মাস আগে থেকেই সজনে ডাটা কিনে নিয়ে যায়। শুরুতে দাম ছিলো ১৬০ টাকা কেজি। পরে বাজারে এর পরিমাণ বাড়তে লাগলে কমতে কমতে এখন এসে পৌঁছেছে ৪০-৫০ কেজি দরে। তবে ধারণা করছি, যেহেতু বাম্পার ফলন, সেহেতু বাজারে কয়েকদিনের মধ্যে সরবরাহ আরো বাড়বে এবং দামও কমবে।

কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ ড. বিমল কুমার প্রামানিক বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে এবং কোন রোগ-বালাই না থাকায় সজনে ডাটার খুবই ভালো ফলন হয়েছে। সজনে গাছ খুবই নাজুক হওয়ায় প্রায় প্রত্যেক বছর কাল বৈশাখী ঝড় ও জোরে বাতাস হলেই গাছ ও ডালপালা ভেঙ্গে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ সজনে ডাটার ফুল ও অপরিপক্ক থাকা অবস্থায় নষ্ট হয়। এবছর এখনো তেমন কোন ঝড় না হওয়ায় ফলনও টিকে গেছে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD