Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
কলকাতায়ও তারা সমান জনপ্রিয়

কলকাতায়ও তারা সমান জনপ্রিয়

বিনোদন নিউজ :            দুই বাংলার সিনেমার মসৃণ আদান-প্রদানের কথা বারবার আলোচনা হলেও কূটনৈতিক জটিলতায় তা এখনো প্রায় স্বপ্নই রয়ে গেছে। অথচ ওপার বাংলার ‘দাদাগিরি’, ‘মীরাক্কেল’ অথবা ‘শ্রীময়ী’ দেখতে অভ্যস্ত আমাদের দর্শক। পাশাপাশি ভারতীয় বাংলা সিনেমার ভক্ত আমাদের দেশে অনেক আগে থেকেই আছে। অনেক আগে অবশ্য আমাদের দেশের সিনেমাও বেশ জনপ্রিয় ছিল কলকাতায়। কিন্তু এখন? সেখানে কেল্লাফতে করছে আমাদের দেশের নাটক। ইউটিউবের সৌজন্যে কলকাতায় মোশাররফ করিম, আ খ ম হাসান চৌধুরী, চঞ্চল চৌধুরী, আফরান নিশো, অপূর্ব, মেহজাবিন, নুসরাত ইমরোজ তিশা, তানজিন তিশারা হয়ে উঠছেন ভারতের বাঙালির মনের মানুষ। ফলে বাংলাদেশের নাটকের দর্শক বা ভিউয়ার সংখ্যা রীতিমতো রেকর্ড গড়ে চলেছে।

‘ঢাকা লিট ফেস্ট ২০১৮’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে আড্ডায় মেতেছিলেন দুই বাংলার কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও ইমদাদুল হক মিলন। ‘বাংলাদেশের টিভি নাটকের নিয়মিত দর্শক আমি’- শীর্ষেন্দুর মুখে কথাটা শুনে নড়েচড়ে বসেন সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের টিভি চ্যানেল ভারতে দেখানো হয় না। আমি নাটক দেখি ইউটিউবে। এভাবেই ধীরে ধীরে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বাড়বে। সংস্কৃতি কখনই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। মানসম্পন্ন কাজ হলে তা দর্শকের কাছে পৌঁছবেই।’

বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি যুগের শুরু থেকেই নিরবচ্ছিন্নভাবে ভারতের টিভি চ্যানেলের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের দর্শকদের। বিপরীতে বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলো দেখানোই হয় না ভারতে। মাঝে মধ্যে দুই-একটি চ্যানেল দেখা যায়, কয়েক দিন পর আবার বন্ধ। ফলে দর্শকদের অভ্যস্ত করাতে পারেনি বাংলাদেশি চ্যানেলগুলো। যদি এই বাধা না থাকত তা হলে কলকাতা হতো বাংলাদেশি বিনোদনের অন্যতম গ্রাহক।

পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও আসামের বাঙালিরা টিভির অ্যান্টেনা ঘুরিয়ে অনেক কসরত করে দেখতেন বিটিভি। সেখানকার নাটক, ম্যাগাজিন আর গানের অনুষ্ঠান দেখার স্মৃতি পাওয়া গেছে বিখ্যাত লোকদের দিনলিপিতে। ‘একতলা দোতলা’, ‘সকাল সন্ধ্যা’, ‘ঢাকায় থাকি’, ‘সংশপ্তক’ ধারাবাহিকের প্রতি পর্বের জন্য বাংলাদেশের মতো অপেক্ষা করে থাকত কলকাতার দর্শক। বিটিভির ১৯৭৯ সালের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘সকাল সন্ধ্যা’র অভিনেত্রী আফরোজা বানু এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, কলকাতায় গেলে রাস্তায় বের হতে পারতেন না। লোকজন চিনে ফেলত, দিতে হতো অটোগ্রাফও। বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেতা-গায়কদের বেশ কদর আছে সেখানে। যদিও সেই পরিস্থিতি আমূল বদলে গেছে নতুন শতাব্দীর শুরুতে।

কিন্তু ইউটিউবের কল্যাণে এখন আমাদের দেশের প্রায় টিভি তাকরাকেই চেনেন কলকাতার দর্শক। শুনে চেনেন বললে ভুল হবে। সেখানে প্রচুর ভক্ত আছে তাদের। জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিমের জন্য তো কলকাতার ভক্তরা জন্মদিনের উপহারও নিয়ে আসেন। জানান শুভেচ্ছা। পশ্চিমবাংলার শিল্পীরা অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশের সংস্কৃতির খোঁজখবর রাখেন। কে ভালো কাজ করছে, কে কোন চরিত্রের জন্য মানানসই সবই জানেন তারা। জয়া আহসানকে পশ্চিমবঙ্গের ছবিতে সুযোগ দিয়েছিলেন অরিন্দম শীল, ‘আবর্ত’ ছবিতে। ২০১৩ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে জয়ার সুযোগ হয়েছে টিভি নাটকের কল্যাণেই। দুই বাংলার দর্শকদের মেলবন্ধনে বড় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্র্রি বিনির্মাণের চেষ্টা চলেছে বেশ কয়েক বছর ধরে। ঢালিউড-টালিগঞ্জের যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত বেশ কিছু চলচ্চিত্র যে কাজটা করতে পারেনি, টিভি নাটক সেই কাজটা অনায়াসেই করে ফেলল। সারা বিশ্বের বাঙালি দর্শকদের এক ছাতার নিচে নিয়ে আসার ভিত তৈরি হলো এখানে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD