Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
সংবাদ শিরোনাম :
কালিগঞ্জে সাংবাদিক অনু’র মুক্তির দাবীতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ আইনশৃংখলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি জনগন কে এগিয়ে আসতে হবে : পুলিশ সুপার জেরিন আখতার বিলুপ্তির পথে চাটমোহরে চুন শিল্প চাটমোহরে শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হলেন আব্দুর রহিম কালু হাবিপ্রবিতে “শিক্ষণ পদ্ধতি বিষয়ক” প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে বরগুনায় মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান বরগুনার ঢলুয়া ইউ পির দুই মেম্বর নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন বিক্ষোভ সমাবেশ স্মারক লিপি প্রদান অনুষ্ঠিত বরগুনা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে রাস্তায় সন্তান প্রসব করলেন মা অবৈধ দখল-দূষণে বড়াল নদী এখন মরা খাল মাধবপুরে গাঁজা ও পিকাপ সহ মাদক ব্যাবসায়ী আটক
কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ রফি:আর্ফিয়াস ও তানসেনের মিশ্রণে সর্বকালের সেরা প্লেব্যাক সম্রাট

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী মোহাম্মদ রফি:আর্ফিয়াস ও তানসেনের মিশ্রণে সর্বকালের সেরা প্লেব্যাক সম্রাট

ফাইজুল ইসলাম:        গ্রিক পুরাণের সেরা গায়ক ছিলেন দেবতা অ্যাপোলোর বরপুত্র অর্ফিয়াস। তিনি যখন তার বীণা বাজিয়ে গান গাইতেন তখন সাগর, নদী, পাহাড় এবং দেব-দানব সকলেই তন্ময় হয়ে শুনতেন। তার অপূর্ব সুরের মায়ায় দেবরাজ জিউসও মুগ্ধ হতেন। অর্ফিয়াস যদি একালে জন্মাতেন এবং বলিউডের সিনেমায় গান গাইতেন তাহলে নিশ্চয়ই তিনি হতেন মোহাম্মাদ রফি।

বাহারো ফুল বরসাও’, ‘ইয়ে দুনিয়া ইয়ে মেহফিল’, `গুলাবি আঁখে’ এমনি কত সহস্র গান, কত সুপারহিট ছবি। মোহম্মাদ রফির কণ্ঠে গান মানেই তো সেটি শ্রোতার হৃদয়ে স্থান পাবে। কিংবদন্তি এই প্লেব্যাক গায়ক প্রায় ২৮ হাজার গান গেয়েছিলেন। হিন্দি ছাড়াও বাংলা, অহমিয়া,কোনকানি, ভোজপুরি, উড়িয়া, পাঞ্জাবি, মারাঠি, সিন্ধি, কন্নাড়া, গুজরাটি, তেলেগু,মাগাহি, মৈথিলি, উর্দু ইত্যাদি ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। ইংরেজি, ফার্সি, স্প্যানিশ এং ডাচ ভাষাতেও গান করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে লতা মুঙ্গেশকর মোহাম্মদ রফি সম্পর্কে পরিষ্কার বলে দিয়েছিলেন, ‘এক শ বছরেও মোহাম্মদ রফির মতো কণ্ঠ আর আসবে না৷’

মহম্মদ রফিকে সঙ্গীত পরিচালক নওশাদ বলতেন ভারতের আধুনিক তানসেন। মান্না দে বলেছিলেন, ‘রফির মতো গায়ক ভারতবর্ষ আর পায়নি।’

কী গাননি মোহাম্মদ রফি? হিন্দি গানের কোনো শ্রোতাই তার গানের ভুবন ঘুরে এসে বলতে পারবেন না, কই আমার জন্য কিছুই তো গাননি? হ্যায় না বোলো বোলো, চাক্কে মে চাক্কা, রে মামা রে মামা রে, ছু ছু কারতি বা নানহে মুনহে বাচ্চে এমন গান বাচ্চা প্রবীণ সবাইকেই স্পর্শ করে।

জন্ম ১৯২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর অবিভক্ত ভারতের পাঞ্জাবে। অমৃতসরের কাছে একটি ছোট গ্রাম কোটলা সুলতান সিং, সেই গ্রামের বাসিন্দা হাজি আলি মোহাম্মদের সন্তান রফির ডাকনাম ছিল ‘ফিকু’। ছোটবেলায় এক অন্ধ ফকির তার বাড়ির উঠোনে গান গাইতে আসতেন, সামনে বসে রফি গুনগুন করে গলা মেলাতেন। ১০-১১ বছর বয়সে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে যখন গলা ছেড়ে গাইতেন, মুগ্ধ হয়ে শুনত গ্রামের মানুষ। বিভিন্ন মাহফিলেও গাইতেন। ১৮ বছর বয়সে লাহোরে ‘গুলবদন’ নামে এক ছবিতে প্রথম গান গাওয়ার সুযোগ পান। অল ইন্ডিয়া রেডিওর লাহোর স্টুডিওতেও গান গাইলেন কয়েকবার। কিন্তু কিছুতেই মন ভরছিল না। রফির চোখে তখন মুম্বাইয়ের স্বপ্ন। সুযোগ মিলল কিছুদিন পর। বড় ভাইয়ের বন্ধু আবদুল হামিদের সঙ্গে ১৯৪৪-এ মুম্বাই পাড়ি জমান রফি। শুরু হলো নতুন জীবনসংগ্রাম। পরিচালক শ্যামসুন্দর তাকে সুযোগ করে দিলেন জিএম দুররানির সঙ্গে পর পর দুটি ছবিতে গাওয়ার। আরও কয়েকটি ছবিতে গাইলেন। বছরখানেক পর পরিচয় হলো প্রখ্যাত সংগীতকার নওশাদের সঙ্গে। প্রথম গানেই রফিতে মুগ্ধ নওশাদ। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বলিউডে রফি ছিলেন ব্যস্ততম প্লেব্যাক গায়ক। সে সময়ের নামকরা সংগীত পরিচালক নওশাদ, ওপি নায়ার, শংকর জয়কিষাণ, শচীন দেব বর্মণ, মদন মোহন, রওশান— এদের সকলের সুরেই গান করেছেন রফি। বিশেষ করে নওশাদের সুরে গান গেয়ে রফি হয়ে ওঠেন সংগীতের আকাশে উজ্জ্বলতম তারকা।

মোহাম্মদ রফির একটা বিশেষ গুণ ছিল। তিনি অন্যের কণ্ঠস্বর নকল করতে পারতেন। ফলে তিনি যে অভিনেতার জন্য প্লেব্যাক করতেন তাঁর মতো কণ্ঠস্বরেই গানটি গাইতে পারতেন। এ জন্য প্লেব্যাক শিল্পী হিসেবে দিলীপ কুমার, দেবানন্দ, রাজকাপুরসহ সেরা সব নায়কদের জন্য গান করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান তিনি। ‘পিয়াসা’, ‘কাগজ কি ফুল’, ‘কালা বাজার’, ‘কালা পানি’, ‘গাইড’-এর মতো সুপারহিট সব ছবিতে এস ডি বর্মণের সুরে গান গেয়েছেন তিনি। ষাটের দশকে লতা মুঙ্গেশকরের সঙ্গে রফির ডুয়েট (দ্বৈত সংগীত) দারুণ জনপ্রিয় হয়।

ষাটের দশকে শাম্মী কাপুর ও ‘জুবিলি হিরো’খ্যাত রাজেন্দ্র কুমারের জন্য শংকর জয়কিষাণের সুরে তুমুল জনপ্রিয় সব গানে প্লেব্যাক করেন তিনি। ‘বসন্ত বাহার’, ‘প্রফেসর’, ‘জংলি’, ‘সুরাজ’, ‘অ্যান ইভিনিং ইন প্যারিস’, ‘লাভ ইন টোকিও’, ‘দিল এক মন্দির’, ‘দিল আপনা আউর প্রীত পারায়া’, ‘জব পেয়ার কিসিসে হোতা হায়’ এর মতো সুপার ডুপার হিট ছবিতে রফির গান দারুণ সমাদৃত হয়। ‘আব হ্যায় দাসতান তেরি ইয়ে জিন্দেগি’, ‘চাহে কোই মুঝে জংলি কাহে’ ইত্যাদি গান দর্শকদের মুখে মুখে ফেরে।

নওশাদের দিক-নির্দেশনায় সর্বমোট ১৪৯টি সঙ্গীত পরিবেশন করেন মোহাম্মদ রফি। এর মধ্যে তার সলো বা একক সঙ্গীত ছিল ৮১টি।

১৯৪১ সালে শ্যাম সুন্দরের পরিচালনায় গুল বালোচ ছবির মাধ্যমে সঙ্গীতে পেশাগতভাবে অভিষেক ঘটান রফি। পরের বছর বোম্বের চলচ্চিত্র গাও কি গৌরী ছবিতে নৈপথ্য গায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটান। এছাড়াও রফি লায়লা-মজনু (১৯৪৫) এবং জুগনু চলচ্চিত্রে সংক্ষিপ্তভাবে, অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেন। লায়লা-মজনু চলচ্চিত্রে ‘তেরা জ্বালা’ কোরাস গানে তাঁকে অন্যান্য শিল্পীদের সাথে গাইতে দেখা যায়।

১৯৪৪ সালে মহম্মদ রফি বোম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) চলে আসেন। তাঁর শ্যালক সেখানে তাঁকে ভেন্দী বাজারের মতো ব্যস্ততম এলাকায় দশ ফুট বাই দশ ফুট কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করেন। সেখানে তানভীর নাকভী নামীয় একজন কবি – আবদুর রশীদ কারদার, মেহবুব খান এবং অভিনেতা-পরিচালক নাজিরের মতো চলচ্চিত্র পরিচালকের সাথে রফিকে পরিচয় করে দেন। শ্যাম সুন্দর তখন মুম্বাইয়ে অবস্থান করছিলেন। তিনি রফিকে আবারো জিএম দুররানী’র সাথে দ্বৈত সঙ্গীতে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। শ্যাম সুন্দরের গাঁও কি গোরী চলচ্চিত্রের আজি দিল হো কাবু মে তো দিলদার কি এ্যায়সী তাঈসী গানের মাধ্যমে মহম্মদ রফি হিন্দী চলচ্চিত্রে প্রথম গান রেকর্ড করেন।

১৯৪৮ সালে মহাত্মা গান্ধী নিহত হবার পর হুসনলাল ভগতরাম-রাজেন্দ্র কৃষাণ-রফি ত্রয়ী একরাত্রিতেই কালজয়ী শুনো শুনো এই দুনিয়াওয়ালো, বাপুজী কি অমর কাহিনী গান রচনা করে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর তিনি ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহ্‌রু`র আমন্ত্রণে গানটি পুণরায় পরিবেশন করে উপস্থিত সকলকে শোনান। ১৯৪৮ সালে ভারতের স্বাধীনতা দিবসে নেহরু`র কাছ থেকে রৌপ্য পদক গ্রহণ করেন মোহাম্মদ রফি।শুরুর দিকে ফিল্মফেয়ার কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র একজন কণ্ঠশিল্পীকে বছরের সেরা গায়ক নির্বাচিত করতো। ষাটের দশকে কিশোর কুমারকে টপকিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি (৬বার) এ পদক পেয়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন।

১৯৫২ সালে মুক্তি পাওয়া “বাঈজিবাওরা” ছবিতে নওশাদের সুরে রফি পরিবেশন করেন তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গান “ও দুনিয়াকি রাখওয়ালে”। এই গানটির জন্য শ্রোতাদের কাছে তিনি অসাধারন জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। এমনি ছিল রফিকের গলার যাদু যে সংগীত প্রেমীরা তাঁর গানে নিজের জীবনের ছায়া দেখতে পেতেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জনৈক আসামীকে তার জীবনে সর্বশেষ ইচ্ছার কথা জানতে চাওয়া হলে লোকটি জানালেন তিনি “ও দুনিয়া কি রাখওয়ালে গান টি শুনে ফাঁসির মঞ্চে উঠতে চান।

১৯৫০ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে বলিউডে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য গায়কদের তুলনায় রফিকেই দেখা গিয়েছিল সবচেয়ে বেশি। এছাড়া হিন্দি ছবিতে তিনি অনেক খ্যাতনামা চলচ্চিত্র তারকার জন্যে গান গেয়েছেন। ১৯৬৫ সালে সঙ্গীত কলায় অসামান্য অবদান রাখায় ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে।

সত্তরের দশকে ‘পাগলা কাহিকা’, ‘হির রানঝা’, ‘সাওন ভাদো’, ‘জীবন মৃত্যু’, ‘দ্য ট্রেইন’, ‘সাচ্চা ঝুটা’, ‘পাকিজা’, ‘মেহবুব কি মেহেন্দি’, ‘গ্যাম্বলার’, ‘অভিমান’, ‘ইয়াদো কি বারাত’, ‘লোফার’, ‘দাস্তান’ ইত্যাদি হিট ছবিতে গান করেন তিনি।

সত্তরের দশকেই ‘তুম মুঝে ইয়ু ভুলা না পাওগে’, ‘ইয়ে দুনিয়া ইয়ে মেহেফিল’, ‘গুলাবি আঁখে’, ‘আজ মৌসাম বারা বেইমান হ্যায়’, ‘কান মে ঝুমকা’, ‘তেরে বিন্দিয়া রে’, ইত্যাদি গানে তিনি শ্রোতাদের মনে ঝড় তোলেন।

কণ্ঠসঙ্গীতে রফি’র স্মরণীয় অংশগ্রহণ ছিল – লায়লা মজনু (১৯৭৬), আপনাপান (১৯৭৮), কুরবাণী (১৯৮০), দোস্তানা (১৯৮০), দ্য বার্নিং ট্রেন (১৯৮০), নছীব (১৯৮১), আবদুল্লাহ (১৯৮০), শান (১৯৮০) এবং আশা (১৯৮০) চলচ্চিত্রসমূহে।
লতা মঙ্গেশকরের সাথে মোহাম্মদ রফির জুটিকে বলিউড ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ জুটি ধরা হয়। তাঁরা ১৯৪৯ সালে বারসাত ছবি থেকে শুরু করে একনাগাড়ে রফির মৃত্যু পর্যন্ত ৫০০ এর অধিক দ্বৈত গানে অংশ নেন।

আশা ভোঁসলের সাথে রফির জুটিকে পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জুটি বলা হয়। তাঁরা ১৯৫০-৮৭ সাল পর্যন্ত সঙ্গীতে যুক্ত ছিলেন (১৯৮০ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এক দশক পর্যন্ত রফির গান মুক্তি পেতে থাকে)। আশা ভোঁসলে আর মোহাম্মদ রফি মোট ৯১৮টি দ্বৈত গানে কন্ঠ দিয়েছেন, যা বলিউডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাংলায় বেশ কিছু জনপ্রিয় গান রয়েছে মোহাম্মদ রাফির কণ্ঠে। ‘ওরে মনকে এমন দাগা দিয়ে’, ‘ওই দূর দিগন্ত পারে’, ‘নাই বা পরিলে আজ মালা চন্দন’, ‘কথা ছিল দেখা হলে’, ‘এ জীবনে যদি আর কোনোদিন’, ‘নওল কিশোর’, ‘কালো কলেবর কানহাই’, ইত্যাদি গান এখনও শ্রোতাদের মন ভরায়। তার অনিন্দ্য কণ্ঠে নজরুল সংগীত ‘আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন’ গায়কীতে আজও অনন্য।

১৯৭৪ সালে তেরী গালিও ম্যা না রাখেঙ্গে কদম আজ কে বাদ গানের জন্য ফিল্ম ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের পক্ষ থেকে সেরা গায়কের পুরস্কার এবং ২০০১ সালে হিরো হোণ্ডা-স্টারডাস্ট ম্যাগাজিনের যৌথ উদ্যোগে ৭ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে অংশগ্রহণকারী পাঠকদের ৭০ শতাংশ ভোট পেয়ে তিনি শতাব্দীর সেরা গায়ক হিসেবে পুরস্কৃত হন।

দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছরের সঙ্গীত জীবনে ২৬ হাজারের মতো গান গেয়ে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে যৌথভাবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন মোহাম্মদ রফি। শিল্প মোহাম্মদ রফির মতো এত বিশাল গানের ভাণ্ডার আর স্রষ্টা যাদুকরী কজনরই বা ভাগ্যে জোটে। শিল্পী মোহাম্মদ রফি সঙ্গীতের জগতে নিজেকে বারবার গড়েছেন,ভেঙেছেন।

জীবনে তিনি দু’বার হজ্জ করেন। কথিত আছে একবার তিনি পবিত্র মক্কা শরীফে হজ্জ করতে গিয়ে হেরেম শরীফে আযান দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। বাইরের লোকের আযান দেওয়ার সুযোগ নেই এই কথা বললেও পরে তাঁকে ভারতীয় সুকণ্ঠের অধিকারী উচ্চমানের শিল্পী হওয়ায় আযান দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। সেই সুযোগ পাওয়ার পর তিনি পবিত্র মক্কা শরীফের মিনারে আযান দেন। এতো সুন্দর সুললিত আযান শুনে সবাই মুগ্ধ হয়েছিল।

৩১ জুলাই,১৯৮০ মোহাম্মদ রফি প্রচন্ড বুকে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন।হাসপাতালে যাবার আগে পরিবারকে বিদায় জানিয়ে বললেন শেষ কথা “মেরে লিয়ে দুয়া করনা”। হাসপাতাল থেকে তাঁর আর বাড়ি ফেরা হয়নি। এভাবে মাত্র ৫৬ বছর বয়সে চির বিদায় নিয়েছিলেন উপমহাদের কিংবদন্তি কন্ঠশিল্পী মোহাম্মদ রফি। পরদিন শুক্রবার, পবিত্র রমজানের শেষ জুমার নামাজের পর মোম্বাইয়ের জুহু কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়। রফির শেষ যাত্রায় অংশ নিতে সেদিন কষ্টের চাদরে ঢাকা মোম্বাই শহরে রাজপথে নেমেছিল শোকার্ত মানুষের ঢল। কেঁদে বুক ভাসাচ্ছিলেন সবাই। আকাশ ভেঙ্গে তখন নেমেছিল তুমুল বৃষ্টি। সবার সাথে একাত্ব হয়ে প্রকৃতিও যেন কাঁদছিল অঝোরে। কারো শবযাত্রায় মুম্বাই শহরে এতো মানুষের সমাগম এর আগে কখনো হয়নি। রফির চলে যাবার শোক সইতে না পেরে প্রবাসে তাঁর কয়েকজন ভক্ত আত্মহননের চেষ্টা করেছিলেন।
মানুষের এতটাই প্রিয় ছিলেন মোহাম্মদ রফি।

এক জন গায়ক যদি পাঁচ বার জাতীয় পুরস্কার পেয়ে থাকেন, তো তাঁর আর চাইবার কী-ই বা থাকতে পারে?
“রফি সাব একলা চলে যাননি, সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন তাঁর গোটা স্কুলটি, সঙ্গীত জগতের রফি ঘরানাও তাঁর সঙ্গে সঙ্গেই বিদায় নিয়েছে”, এমনই মন্তব্য করেছিলেন মান্না দে, রফিসাবের মৃত্যুর পরে

২০১০ সালে তার কবরস্থানটি ভেঙ্গে ফেলা হয় নতুন মৃতদেহ সমাধি দেয়ার জন্য। মূল সমাধি ভেঙে ফেলার দরুণ এর সন্নিকটে একটি নির্দিষ্ট নারিকেল গাছকে তার প্রতীকি সমাধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মুম্বাইয়ের বন্দ্রা এবং পুনেতে মোহাম্মদ রফি অবিস্মরণীয় করে রাখতে “পদ্মশ্রী মোহাম্মদ রফি চক” নামে রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

Source

1.Mohd Rofi,Wikimedia
2.Rana Chakrabarty

3.Mohammed Rafi: My Abba: a Memoir, Yasmin Khalid Rafi, Tranquebar (২০১২)।
4.- Mohammed Rafi: Golden Voice of the Silver Screen, Shahid Rafi and Sujata Dev, Om Books International (২০১৫)।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD