Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
সংবাদ শিরোনাম :
বিভিন্ন দাবীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাসদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আ.লীগের কাউন্সিল ঘিরে উৎসাহের আমেজ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী সাংবাদিকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষনের উদ্বোধন সংশোধিত সংবাদ সম্মেলন করেন বিনয়কৃষ্ণ ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল রক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ কলারোয়ায় হেলাতলায় ইউনিয়নে ভোট পুনঃগননার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন রাণীশংকৈলের মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন ভাতা বঞ্চিত, ইউএনও’র কাছে আবেদন সাতক্ষীরায় মেডিকেলে কলেজে ৭ কোটি টাকার দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উর্বরতা হারাচ্ছে উপকূলের মাটি বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে ‘রোডম্যাপ’ করতে চায় কুয়েত
চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

নাদিম হোসেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :        অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। অভিযোগ কলেজে যোগদানের পর থেকেই একের পর এক নিজেকে জড়িয়েছেন অনিয়ম-দূর্নীতিতে। মূল্যবান গাছ কাটা, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, আমবাগান বিক্রি, অর্নাস বিল্ডিং তৈরি ও দাতার জমি দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের নামে বিপুল পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউসুফ আলী কলেজটি সরকারিকরণ হয় ২০১৮ সালে। কিন্তু ২০১৬ সালের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী দৈনন্দিন খরচ ব্যতীত কলেজের উন্নয়নে কোন ধরনের প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন না অধ্যক্ষ। কিন্তু ২০১৫ সালে কলেজে যোগদানের পর থেকে এবং সরকারি নিষেধাজ্ঞার পরিপত্র লংঘন করে একের পর এক অনিয়ম-দূর্নীতিতে নিজেকে জড়িয়েছেন অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম।

গোমস্তাপুরের কাঠিয়ালপাড়ার এলাকার সাইফুল ইসলাম ডাবলু ও ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান,‘ ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি বিধি লঙ্ঘণ করে হোস্টেল সংস্কার, কলেজ ক্যাম্পাসের প্রায় ৫০টি গাছ কর্তন, পুকুর ও জমি লিজ দেওয়া এবং ফলবাগান বিক্রি করেছেন টেন্ডার ছাড়ায়। দিয়েছেন সরকারি ভ্যাট ও আইটি ফাঁকিও। অনুসন্ধানেও মিলেছে সত্যতা। এ বিষয়ে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, ভ্যাট ও আইটি খাতে টাকা জমার চালানকপি এবং কাগজপত্র দেখতে চাইলে দেখাতে পারেননি অধ্যক্ষ। শুধু তাই নয়; অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাতাদের অতিরিক্ত ৯৯ শতাংশ জমি দখল করে নির্মাণ করেছেন সীমানা প্রাচীর। অনিয়ম-দূনীর্তি করেছেন অনার্স বিল্ডিং তৈরিতেও।


এ বিষয়ে রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, দুদক, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর অনিয়ম-দূর্নীতির লিখিত অভিযোগ করেছেন কলেজে জমিদানকারী দাতার প্রতিনিধি ইয়াসিন আলী। অভিযোগ করেও; মেলেনি কোন প্রতিকার। থামানো যায়নি অধ্যক্ষের অনিয়ম-দূর্নীতি। অভিযোগ সূত্রেও, জানা গেছে অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম-দূর্নীতির এসব তথ্য।
অভিযোগকারী দাতা সদস্য ইয়াসিন আলী জানান,‘গত বছরের ২ ডিসেম্বর অভিযোগ দাখিল করলেও ইউএনও প্রায় ২ মাস পর গত ৮ মার্চ এ বিষয়ে শুনানী সম্পন্ন করেন। তবে, দাতার প্রতিনিধি অভিযোগ করেন ইউএনওকে অভিযোগ দেয়ার পর ২ মাস তিনি এ বিষয়ে রহস্যজনক নিরবতা পালন করেন এবং শুনানীতে অধ্যক্ষের পক্ষ নেয়ার চেষ্টা করেছেন এবং তাকে বিভিন্নভাবে অভিযোগ থেকে নিবৃত্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে কলেজটির সাবেক গর্ভনিং বডির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলবুল অধ্যক্ষের অনিয়ম-দূর্নীতির সতত্যা নিশ্চিত করে বলেন,‘ যে সকল অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সঠিকভাবে তদন্ত করলে তার বিরুদ্ধে আরও অনেক অনিয়ম-দূর্নীতি বেরিয়ে আসবে। যদিও তিনি বলেন, জিবি সদস্য থাকাকালীন তার অপকর্মের বিরুদ্ধে বারবার বাধা দিলেও; তিনি কাউকেউ মানেননি। উল্টো সাবেক সংসদ সদস্যকে টাকা দিয়ে জেষ্ঠ্যতা লঙ্ঘণ করে অধ্যক্ষ হওয়ায় তার এই অনিয়ম-দূর্নীতির পেছনে সাবেক সংসদ সদস্যের আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকায় এবং গর্ভনিং বডির অপর সদস্যরা অধ্যক্ষের তল্পিবাহক হওয়ায় অধ্যক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই এসব অনিয়ম-দূর্নীতি করে আসছেন। এ বিষয়ের সঠিক তদন্তও চান এই জিবি সদস্য।
এখানেই শেষ নয়; অধ্যক্ষের দূর্ণীতির সবচেয়ে বড় শিকার কলেজের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, ভর্তি ও ফর্ম ফিলাপ, ইয়ার চেঞ্জসহ কলেজের উন্নয়নের নামে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছেন অধ্যক্ষ। আর এসব অনিয়ম-দূর্ণীতির বিষয়ে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন এবং প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিলেও; প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা।
ডিগ্রি ফাইনাল বর্ষের শিক্ষার্থী, আল-আমিন ও মোমিনুল হকসহ আরও অনেক শিক্ষার্থীই জানান,‘ ফরম পূরণে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে অভিযোগ করলেও; কোন প্রতিকার পায়নি আমরা। সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে নানা ধরনের হয়রানি ও হুমকি-ধামকি দেয় অধ্যক্ষ। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আমরা শিক্ষার্থীরা উপজেলা প্রশাসনের সামনে মানববন্ধনসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে স্মারকলিপি প্রদান করলেও কোন ব্যবস্থায় নেয়নি প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দাবি অধ্যক্ষের অনিয়ম-দূর্নীতির তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হউক এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া বন্ধ হউক।


সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সব কলেজেই কম বেশি একই নিয়ম হওয়ার কথা। অথচ আশ-পাশের উপজেলার সরকারি কলেজগুলোতে (নাচোলে ৩৬৫০ টাকা, নিয়ামতপুরে ২৮৫০ টাকা, শিবগঞ্জ আদিনা কলেজে ৩৬৫০ টাকা) অনেক কম টাকা নিলেও; আমাদের কলেজে নিচ্ছেন ৪৫০০ টাকার উপরে। যা এই করোনাকালে আমাদের অভিভাবকদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ একটি সরকারি কলেজে বিভিন্ন উন্নয়ন ফান্ডের নামে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর এটি এইচএসসি, অনার্স, ডিগ্রি, উন্মুক্ত সব শ্রেণীতেই নেওয়া হচ্ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, কলেজটিতে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ডিগ্রি ও এইচএসসি পর্যায়ে প্রায় ১৮০০ জন শিক্ষার্থী পড়াশুনা করেন। অথচ অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের নকল প্রবনতায় সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার নাম করেও হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও ক্রীড়া সংগঠক জাকিরুল ইসলাম ও বর্তমান শিক্ষার্থী ফারুক হোসেন জানান,‘পরীক্ষায় অতিরিক্তি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রত্যেক ছাত্রদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেন অধ্যক্ষ কোন ধরনের ডকুমেন্ট ছাড়াই। আর এসব কাজ করেন ওই কলেজের অধ্যক্ষের মদদপুষ্ট শিক্ষকদের একটি সিন্ডিকেট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষকও বিষটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,‘ পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অধ্যক্ষ ৫০০ টাকা করে নেন।’ শুধু তাই নয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষ পদের সম্মানী ভাতাও তিনি একাই ভোগ করেন। এদিকে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশ পত্র ফি বাবদ ২০০ টাকা কলেজ তহবিলে জমা না করে নিজে আত্মসাৎ করে আসছেন বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে।

৮ জন শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণ ও শিক্ষক-কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিল থেকেও লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে নন এমপিওভুক্ত ৮ জন শিক্ষক টাকা ফেরত চেয়ে অধ্যক্ষেরে কাছে লিখিত আবেদন করলেও এপর্যন্ত কোন টাকা ফেরত দেননি অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে একটি স্বার্থন্বেসী মহল হিংস্যা-বিদ্বেষী হয়ে এসব অভিযোগ এনেছেন। যা উদ্দেশ্যমূলক এবং কলেজের ভাবমূর্তি নষ্টের যড়যন্ত্র। আর রশিদ ছাড়া কোন ফি আদায় করা হয়না। তবে অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস কলেজ সভাপতি ও গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান। আর এ অবস্থায় কলেজে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অধ্যক্ষের অনিয়ম-দূর্নীতির তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD