Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
জিপিএ- ৫ পেয়েছে ওরা চারজন, স্বপ্নগুলো আজ ভাঙ্গা আয়নার মতো

জিপিএ- ৫ পেয়েছে ওরা চারজন, স্বপ্নগুলো আজ ভাঙ্গা আয়নার মতো

এম.এস রিয়াদ, বরগুনা :        বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অপ্রাপ্তবয়স্ক এইচএসসি পরিক্ষার্থী চারজনই পেয়েছেন জিপিএ-৫। এরা হল:- রাশিদুল হাসান রিশান (ফরাজী), মো. রাকিবুল হাসান রিফাত (হাওলাদার), মো. নাইম ও মো. অলিউল্লাহ হাওলাদার।

এইচএসসিতে জিপিএ-৫ অটোপাসে হলেও বিগত পরিক্ষার ফলাফলও ছিলো প্রাণবন্ত। যাদের ছোটবেলা থেকেই অন্তরে স্বপ্ন বুনে রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হবেন। হবেন দেশ সেরা একজন। যাদের বাবা-মায়ের অন্তরে ছিলো এক আকাশচুম্বি স্বপ্ন। কিন্তু একটি ঝড়ে স্বপ্নগুলো হারিয়ে গেছে এক অজানায়। আজ এত ভালো ফলাফলগুলো কি তাহলে ভবিষ্যতের জন্য গল্প হয়েই বাঁচবে; নাকি সরকারের সাধারণ ক্ষমায় ফিরে পাবে জীবনের এক নীল আকাশ জোড়া বুনে রাখা স্বপ্নে প্রাণ।

তবে সাজাপ্রাপ্ত শিশুদের অভিভাবকরা সরকারের কাছে তাদের সন্তানদের সাধারণ ক্ষমা করে ঝড়তে না দিয়ে জীবনকে ভালোর সর্বোচ্চ গড়তে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। শিক্ষাজীবনে এই চার কৃতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ফলাফল অসামান্য-

রাশিদুল হাসান রিশান(ফরাজী):- বরগুনা ইউটিডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বরগুনা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। বরগুনা জিলা স্কুল থেকেই জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরিক্ষায় জিপিএ-৫, সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এবং সর্বশেষ বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরিক্ষায় অটোপাশে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এছাড়াও রিশান ছিলো উপস্থিত বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি সহ নানা বিষয়ে চৌকস।

মোঃ রাকিবুল হাসান রিফাত (হাওলাদার):- বরগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১২ সালে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বরগুনা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। বরগুনা জিলা স্কুল থেকেই জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরিক্ষায় জিপিএ-৫, সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এবং সর্বশেষ বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরিক্ষায় অটোপাশে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। তবে রিফাত হাওলাদার এসএসসি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে ঢাকা পাবলিক কলেজ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফে স্থান পান। পারিবারিক কারণে ভর্তি হতে গিয়েও ভর্তি না হয়ে ফিরে আসতে হয়েছে বরগুনায়। পরবর্তীতে বরিশাল ব্রজ মোহন (বিএম) কলেজে স্থান পান। সেখানেও তাকে ভর্তি করানো হয়নি। শেষমেশ খোলা স্বপ্নগুলোকে ঝোলায় ঝুলিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজেই ভর্তি হতে হয়। রিফাত হাওলাদার ছিলেন চৌকস খেলোয়ার। ক্রিকেট, হকি, ফুটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল ও দৌড়ে ছিলো অন্যতম। সর্বশেষ ২০১৮ সালে জাতীয় অলিম্পিক যুব গেমস্ এ হ্যান্ডবল খেলোয়ার হিসেবে অংশগ্রহন করেন।

মোঃ অলি উল্লাহ হাওলাদার:- ২০১২ সালে চরকলোনী হামিদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে বরগুনা জিলা স্কুলে ভর্তি হন। বরগুনা জিলা স্কুল থেকেই জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরিক্ষায় জিপিএ-৫, সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ- ৪.৭২ এবং সর্বশেষ বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরিক্ষায় অটোপাশে জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

মোঃ নাইম:- অভাবি সংসারে বড় হওয়া এই নাইম লেখাপড়ায় ছিলো বেশ অদম্য বেগ। নাইমও ২০১২ সালে ৩২ নং ডেমা রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির সমাপনি পরিক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন। পরে ডেমা গুলিশাখালি হাকিমিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরিক্ষায় গোল্ডেন, একই স্কুল থেকে সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরিক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ এবং সর্বশেষ বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরিক্ষায় অটোপাশে গোল্ডেন অর্জন করেন।

২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত শরীফ হত্যাকান্ড ঘটে। ওই বছর ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালেতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জনকে আসামি করা হয়। ২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। এরপর ১৩ জানুয়ারি থেকে অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহন শুরু করেন আদালত। দেখা নয় বরং মোট ৭৪ জন শোনা সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহন করা হয়েছে এ মামলায়।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এ মামলার প্রাপ্তবযস্ক ১০ আসামির রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। রায়ে নিহত আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনের ফাঁসি আদেশ দেন। পাশাপাশি এ রায়ে পঞ্চাস হাজার টাকা করে জরিমানা দেয়ারও আদেশ দেন বিচারক। বাকি চারজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। ২০২০ সালের ১৪ অক্টোবর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেন বরগুনার শিশু আদালত। ২৭ অক্টোবর রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ শিশু আসামির মধ্যে ছয় জনের দশ বছর, চারজনের পাঁচ বছর ও একজনের তিন বছরের কারাদন্ড এবং তিন জনকে বেকসুর খালাস দেন শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান। রায়ে ১০ বছরের কারাদন্ডাদেশপ্রাপ্তরা হলেন, রাশিদুল হাসান রিশান (ফরাজী), মো. রাকিবুল হাসান রিফাত (হাওলাদার), মো. আবু আব্দুল­াহ রায়হান, মোঃ অলি উল­াহ হাওলাদার মো. মো. নাইম এবং তানভীর হোসেন। এছাড়া জয়চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত ও সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ ওরফে মহিব্বুল­াহকে পাঁচ বছরের এবং প্রিন্স মোল্লাকে তিন বছরের কারাদন্ড দেয়া হয়। অন্যদিকে মামলার অপর তিন আসামি মারুফ মলি­ক, রাতুল সিকদার জয় ও আরিয়ান হোসেন শ্রাবনকে বেকসুর খালাস দেয়া হয়েছে।

ইতোপূর্বে পাঁচ বছরের চার জন ও তিন বছরের একজন মহামান্য উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

শিশুদের অভিভাকরা বলছেন, মিন্নির কারণে ধ্বংশ হয়ে যাওয়া পরিবার ও মেধাবী মুখগুলোকে চিরতরে ধ্বংশ না করে সুযোগ দেয়া হোক দেশের জন্য কিছু করতে। কেইবা জানে হয়তোবা এদের মধ্যেই লুকিয়ে আছে অকল্পনীয় কোন প্রতিভা। যা দেশের উন্নয়নেই কাজে লাগতে পারে। এই ভালো অর্জনকে কাজে লাগিয়ে ঘুরতে পারে জীবনের মোড়। করতে পারে দেশকে বিশ্বের বুকে আরও একটু সুন্দররুপে পরিচয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ শিশু অপরাধী ও এদের অভিভাবকরা এখন শুধু অপেক্ষার প্রহর গুণছেন সরকার ও বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের আশায়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD