Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
নাটোর পারবিশা হাটে বছরে ৭০ লাখ টাকার দুধ বিক্রি

নাটোর পারবিশা হাটে বছরে ৭০ লাখ টাকার দুধ বিক্রি

লিটন হোসেন লিমন, নাটোর প্রতিনিধি :          নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পারবিশা হাটে প্রতি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টাকার গাভির দুধ কেনা-বেচা হয়ে থাকে। প্রতিদিন ভোর হলেই আশপাশে কয়েক গ্রামের শত শত দুধ বিক্রেতা গাভির দুধ বিক্রি করতে এ হাটে সমেবেত হন। সারিবদ্ধভাবে রাস্তায় বসে দুধের দাম হাঁকান আর ক্রেতারা দাম মিটিয়ে দুধ ক্রয় করেন। প্রতিদিন সকাল হলেই ক্রেতা আর বিক্রেতাদের মিলন মেলায় পরিণত হয় এই পারবিশা হাটে। ভোরে গাভি থেকে দুধ সংগ্রহের পর সে দুধ বোতলে ভরে হাটে নিয়ে আসেন বিক্রেতারা। বেলা ওঠার আগেই দুধ বিক্রি করে ফিরে যান বাড়িতে। গত দু’দশক ধরে চলছে সারিবদ্ধভাবে বোতলে দুধ বিক্রির প্রচলন।

আর এই দুধ বাজারকে ঘিরে কাঁচা তরিতরকারি, মাছ-মাংস, হাঁস-মুরাগিসহ বিক্রি হয় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। অনেকে দুধ বিক্রি করে শাক-সবজি, মাছ-মাংশ ক্রয় করে বাড়ি ফিরেন। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পারবিশা গ্রামে সরজমিনে গিয়ে দেখা মিলে এমন দৃশ্যই।

জানা যায়, এ পারবিশা হাটে প্রতিদিন ১০০-১৫০ জন গাভির মালিক দুধ বিক্রি করতে আসেন। নিজ বাড়িতে লালন পালন করে গাভি থেকে দুধ সংগ্রহ করে হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসেন। এতে একদিকে যেমন স্থানীয়দের দুধের চাহিদা মিটছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন গাভি পালনকারিরা। গত ২০ ধরে পারবিশা হাটে দুধ বিক্রি শুরু হলেও ১০ বছর ধরে কেনা-বেচা জমজমাট বেশি হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ মণ দুধ বিক্রি হয়ে হয় এখানে। প্রতি লিটার দুধ ৪৫-৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০ মণ দুধের দাম দাঁড়ায় ২০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে দুধ বিক্রি হয় ৫-৬ লাখ টাকার। আর বছরে অন্তত ৬৫-৭০ লাখ টাকার দেশি গাভির দুধ বিক্রি হয় এ পারবিশা হাটে। এ উপজেলায় ছোট-বড় নিয়ে প্রায় ১২শ’ খামার রয়েছে।

গাভি পালনকারী রহিম উদ্দিন বলেন, আমার বাড়িতে দুইটি দুধের গাভি রয়েছে। আর এই দুধ বিক্রি করে আজ তিন বছর থেকে সংসার চলছে। আমার নিজস্ব কোন ফসলি জমি নেই। তাই উৎসাহিত হয়ে গাভি পালন শুরু করি। বর্তমানে আমার বাড়িতে ৪টি গাভি রয়েছে।
এক খামারী বলেন, গরুর খামার লাভজনক হওয়ায় গরু লালন পালনে আগ্রহী হয়েছি আমি। বিশেষ করে দেশীয় প্রজাতির গরুর চেয়ে উন্নত জাতের গরু পালনে আগ্রহ অনেক বেশি। এতে গরু মোটাতাজাকরণ করার পর বাজারজাত করে লাভবান হচ্ছেন, অপরদিকে দুধ বিক্রি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীও হচ্ছেন।

নলডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে মোট দুধ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে প্রতি মাসে দুধ উৎপাদন হচ্ছে ২ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন। এ হিসেবে চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৩২ হাজার ৬৪২ দশমিক ২ মেট্রিক টন দুধ পাওয়া যাবে বলে আশা করছে। বছরে ৭ হাজার ৫৪২ দশমিক ২ মেট্রিক টন বেশি দুধ উৎপাদন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নলডাঙ্গা উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলার পারবিশা হাটে গাভির দুধ বিক্রি করে এ এলাকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে। পাশাপাশি এ এলাকায় দুধের চাহিদাও মিটিয়ে অন্য এলাকায় দুধ সরবারহ করছেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD