Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
প্রেমিকের সেফটিক ট্যাংক থেকে মিলল কিশোরীর লাশ

প্রেমিকের সেফটিক ট্যাংক থেকে মিলল কিশোরীর লাশ

মুর্শিদা আক্তার

নিউজ ডেস্ক :          মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার পূর্ব বোতলা গ্রামে নিখোঁজের ১১ মাস পর প্রেমিকের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের নিচ থেকে মুর্শিদা আক্তার (১৬) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ৮টার দিকে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল এই লাশ উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, জেলার কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার পূর্ব বোতলা গ্রামের মজিদ আকনের ছেলে সাহাবুদ্দিন আকনের (২৫) সঙ্গে একই গ্রামের চাঁনমিয়া হাওলাদারের দশম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে মুর্শিদা আক্তারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের সূত্র ধরেই গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে মুর্শিদাকে তাদের বাড়ি থেকে কৌশলে প্রেমিক সাহাবুদ্দিন আকন তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপরই নিখোঁজ হয় মুর্শিদা। নিখোঁজ থাকার পর গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাতেই মুর্শিদার পরিবার ডাসার থানায় একটি জিডি করে।

স্থানীয় ও মামলা সূত্রে আরও জানা গেছে, এতে কোনো প্রতিকার না হওয়ায় গত বছরের ৪ মার্চ সাহাবুদ্দিনসহ পাঁচজনকে আসামি করে ডাসার থানায় একটি মামলা করেন মুর্শিদার মা মাহিনুর বেগম। দীর্ঘদিন মামলার কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় গত ১৮ ডিসেম্বর মাদারীপুর ডিবি পুলিশ মামলাটির তদন্ত ভার গ্রহণ করে। গত ৩১ ডিসেম্বর মামলার প্রধান আসামি সাহাবুদ্দিন আকন আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম আসামি সাহাবুদ্দিনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন আদালতে।

আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। গতকাল শনিবার বিকেলে সাহাবুদ্দিন হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয় ডিবি পুলিশের কাছে স্বীকার করে এবং লাশ গুম করার কথাও স্বীকার করেছে।

সাহাবুদ্দিনের দেওয়া তথ্য মোতাবেক সন্ধ্যা ৮টার দিকে তার বাড়ির সেফটিক ট্যাংকের নিচ থেকে মুর্শিদার লাশ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। লাশ উদ্ধারের পরে ময়নাতদন্তের জন্যে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহতের মামা মিরাজ তালুকদার বলেন, ‘মুর্শিদা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা ডাসার থানায় প্রথমে জিডি এবং পরবর্তীতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু ডাসার থানার পুলিশের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাই নাই। পরবর্তীতে মামলাটি ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘ডিবি পুলিশের কাছে মামলা হস্তান্তরের পরে আসামি কোর্টে আত্মসমর্পণ করে। আসামি স্বীকারোক্তমূলক জবানবন্দি দেয়। সে মোতাবেক ডিবি পুলিশ আমার ভাগ্নির লাশ উদ্ধার হয়। ঘটনার সাথে যারা জড়িত সাহাবুদ্দিন আকনসহ সকলের ফাঁসি চাই। ’

জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধূরী রেজাউল করিম বলেন, ‘পুলিশ সুপার স্যারের নিদের্শে আমারা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ একটি টিম গতকাল শনিবার রাতে আসামি সাহাবুদ্দিন আকনের বাড়িতে গিয়ে সেফটিক ট্যাংকি ভেঙে তার নিচ থেকে মুর্শিদার লাশ উদ্ধার করি। লাশ উদ্ধারের পরে ময়নাতদন্তের জন্যে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছি। এ ঘটনার তথ্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে আরও জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে।’

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD