Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
বেতাগীতে চিপসের প্যাকেটে ‘হাজার টাকার নোট’

বেতাগীতে চিপসের প্যাকেটে ‘হাজার টাকার নোট’

মোঃ সাদ্দাম হোসেন,বেতাগী, বরগুনা:   বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের জলিসা বাজারের সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বাড়ির বাচ্চারা খেলনা টাকার নোটের লোভে খোলা প্যাকেটের এই চিপস কিনতে দোকানে যাচ্ছে বারবার। বারণ করলেও শুনতে চায় না। এটা খেয়ে বাচ্চাদের পেটে ব্যথা হচ্ছে, গ্যাসের সমস্যাও হচ্ছে।

সম্প্রতি উপজেলার মোকামিয়া দরবার শরীফের ১৯ নভেম্বর ২০২১ ইং রোজ শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় ব্যাগে টাকা তোলার পরে হাজার টাকার একটি খেলনা নোট পাওয়া গেছে।এলাকায় এ নিয়ে তোলপার চলছে।মসজিদের মুসুল্লি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, মসজিদের দানের টাকা নিয়ে এ রকমের প্রতারনা করা ঠিক হয়নি। এ ধরনের খেলনা টাকা জারা বাজারে ছেড়েছে তাদের বিরুদ্বে আইনত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ।

উপজেলার পৌরসভা সহ বিবিচিনি,পোলেরহাট,মোকামিয়া,জলিসা,বদনিখালী,কুমড়াখালী,চান্দুখালী প্রতিটি বাজারে পাঁচ টাকার চিপসের প্যাকেটের মধ্যে মিলছে ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৭০, ৫০ টাকাসহ নানা মূল্যমানের নোট। তবে এগুলো আসল টাকা নয়, নমুনা টাকা। শিশুদের প্রলুব্ধ করে নিম্নমানের চিপস বিক্রি করতে অভিনব এ পন্থা নিয়েছে উপজেলার অননুমোদিত একাধিক প্রতিষ্ঠান উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গ্রামাঞ্চলের দোকানগুলোতে মিলছে এসব চিপস।

স্থানীয় লোকজন জানান, এসব কোম্পানির কোনো নাম নেই, বিএসটিআইয়ের অনুমোদনও নেইএমন কি তাদের উৎপাদনের নেই কোন অনুমোদন। সাদা মোড়কে পাঁচ টাকার চিপসের প্যাকেট কিনলেই বঙ্গবন্ধুর ছবিসংবলিত নমুনা ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০ টাকার নোট পাওয়া যাচ্ছে।

তারা আরও জানান, এই খেলনা টাকার লোভে শিশুরা পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দোকানে গিয়ে নিম্নমানের চিপসগুলো কিনছে। আবার অনেক শিশু পরিবারের কাউকে না জানিয়ে টাকা পেলেই দোকানে গিয়ে এই চিপস কিনছে।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে ঠিকানা ছাড়া সাদা পলিথিনে মোড়ানো গোলাকার এ চিপস বিক্রি করা হচ্ছে। শিশুরা দোকান থেকে সেই চিপস কিনে খেতে খেতেই বাড়ি ফিরছে। ওই সময় তাদের হাতে দেখা যায় ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। সেগুলো দেখতে আসল টাকার মতো হলেও টাকার ডান পাশে ছোট অক্ষরে লেখা ‘খেলনা টাকার নমুনা’।

উপজেলার জলিসাহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া মনি বলে, চিপসগুলো খেতে তেমন ভালো না। খেলনা টাকার জন্যই চিপস কিনি। আমি প্রতিদিন ৪-৫ প্যাকেট চিপস কিনি। কয়েক দিনে অনেক টাকা জমিয়েছি। চিপসের প্যাকেটে টাকার নোটগুলো আমার কাছে অনেক ভালো লাগে।

উপজেলার জলিসাবাজারের চা দোকানি রহমান আলী বলেন, আমাদেও বাজারে এক লোক গাড়িতে এসে আমাদের দোকানে দোকানে এ চিপস বিক্রি করে। আমি কোম্পানির ঠিকানা জানিনা।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুহৃদ সালেহীন বলেন, আমি বাজার কমিটির সাথে কথা বলে নাম-ঠিকানাহীন এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্বে আইগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD