Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
সংবাদ শিরোনাম :
বিভিন্ন দাবীতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাসদের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আ.লীগের কাউন্সিল ঘিরে উৎসাহের আমেজ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ দিনব্যাপী সাংবাদিকদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষনের উদ্বোধন সংশোধিত সংবাদ সম্মেলন করেন বিনয়কৃষ্ণ ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল রক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ কলারোয়ায় হেলাতলায় ইউনিয়নে ভোট পুনঃগননার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন রাণীশংকৈলের মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন ভাতা বঞ্চিত, ইউএনও’র কাছে আবেদন সাতক্ষীরায় মেডিকেলে কলেজে ৭ কোটি টাকার দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উর্বরতা হারাচ্ছে উপকূলের মাটি বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে ‘রোডম্যাপ’ করতে চায় কুয়েত
মুঘল চিত্রকলা জুড়ে আছে ইসলামের অংশ

মুঘল চিত্রকলা জুড়ে আছে ইসলামের অংশ

ইসলামী শিল্পের উৎস প্রাচীন ইরানী সাম্রাজ্যের সাসানিয়ান শিল্পে নিহিত।    সর্বজ্ঞ অলঙ্করণ ও নিদিষ্ট স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য টিকে থেকেছে। ইসলামী শিল্পের ঐ ভিত্তি এক স্টাইল।আঞ্চালিক বিভিন্নতা উৎসারিত হয়েছে প্রধানত উপাদান ও স্থানীয় থেকে ইসলামী শিল্প সম্পূর্ণত ঐক্যবদ্ধ কিন্তু একসঙ্গে বিভিন্ন ও। আবিষ্কার ও মৌলত অলঙ্করণ ও ডিজাইন উৎসারিত হয়েছে বিভিন্ন উৎস ও অঞ্চল থেকে নিত্য নতুন স্টাইলের বলীয়ানতা ইসলামী শিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। ইসলামী শিল্প বর্ণোজ্জ্বল। মেজাজের দিক থেকে এ শিল্প রমণীয় ও আভিজাতিক তাপসী একই সঙ্গে জাঁকালোস্থাপত্যের আলঙ্কারিক গুণ জোর দেয় কাঠামোহীনতার ওপর, যেমন ঘটেছে আলহামরার খিলান ও বহু লতাপাতা এবং ভঙ্গ -খিলান মটিফ ব্যবহার।শিরাওয়ালা গম্বুজ ও খিলান করা, ছাদের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য।

ইসলামের অলঙ্করণ শিল্প কখনোই আবেগবান নয়। এই অলঙ্করণের আছে নির্লিপ্ততা ও দূরত্ব। নির্বাচন অলঙ্করণের চারিত্র, বাহুল্যের স্থান নেই।জালি হচ্ছে অালঙ্কারিক মটিফ। এই মটিফ উৎকীর্ণ, চিত্রিত কিংবা স্থাপত্যের সারফেসে ব্যবহার করা হয়েছে মুঘল চিত্রকলা সহ স্থাপত্য মটিফে।
মুসলিম চিত্রকলার বিভিন্ন শাসকদের শাসনে এক উল্লোখযোগ্য অধ্যায় হচ্ছে মুঘল শাসন। স্থাপত্য শিল্পীর কীর্তিময় অদ্যায় সূচনা করেন মুঘলরা।
মুঘল চিত্রশিল্প দক্ষিণ এশিয়ার এক ধরনের চিত্রকর্ম, যা মূলত ক্ষুদ্র চিত্রশিল্প এবং যাকে বই হিসাবে অথবা ব্যক্তিগত অ্যালবাম হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে৷ চিত্রশিল্পটিতে পারস্যের চিত্রশিল্পের প্রভাব রয়েছে এবং বৃহত্তর অর্থে এ উভয় চিত্রশিল্পই (চীনা চিত্রশিল্প) দ্বারা প্রভাবিত৷ এর সাথে যোগ হয়েছে হিন্দু, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের চিত্রশিল্পের মিশ্রণ৷ তবে এ চিত্রশিল্পটি ১৬ শতক হতে ১৮ শতকে ভারত শাসনকারী মুঘলদের শাসন আমলে চর্চাকৃত চিত্রশিল্পকেই বুঝায়৷ মুঘল চিত্রশিল্প হিন্দু ও মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিস্তৃতি লাভ করে৷ শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যেও এ চিত্রশিল্পের চর্চা লক্ষ্য করা যায়৷তবে মুসলিম স্থাপত্যকলা বেশি চর্চা হয়েছে।

মুঘল চিত্রশিল্প পারস্য এবং ভারতের চিত্রশিল্পের এক ধরনের মিশ্রণ৷ পূর্ব হতেই দিল্লির তুর্কী-আফগান সুলতানাত এর মুসলিমদের মধ্যে ক্ষুদ্র চিত্রশিল্পের চর্চা ছিলো, যা মুঘল সম্প্রদায়ের মাধ্যমে অধিগৃহিত হয়৷ মুঘলদের মতোই মধ্য এশিয়ার অন্যান্য বিজয়ী শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন সময়ে বাইরের সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন৷ যদিও প্রথমদিককার মুঘল শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে প্রথমটি পাওয়া গেছে ভারতের মানডু শহরে৷ এর পূর্বের চিত্রশিল্পগুলোর মধ্যে প্রায় সবগুলোই হারিয়ে গেছে৷ অবশ্য মুঘলদের দ্বারা ভারত অধিকৃত হওয়ার পর পারস্যের চিত্রশিল্পের ধারার কিছু পরিবর্তন করা হয়৷ যেমন পারস্যের চিত্রশিল্পগুলোতে প্রাণী এবং বৃক্ষের ছবিগুলো যেভাবে দূর অবস্থানে ফুটিয়ে তোলা হত, মুঘল চিত্রশিল্পে এক্ষেত্রে প্রাণী ও গাছপালার ছবিগুলো আরও স্পষ্ট ও বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে৷

মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা সম্রাট বাবরের সময়কার কোনও চিত্রকর্ম অবশ্য পরবর্তীতে পাওয়া সম্ভব হয়নি৷ তার লেখা বাবরনামা হতেও এ সম্পর্কে জানা যায় না৷ সম্রাট আকবরের সময়ে অবশ্য বেশ কিছু চিত্রকর্ম প্রস্তুত করা হয়৷ কিছু কিছু শিল্পকর্মের উপর তার সীলও পাওয়া যায়৷ মুঘলরা যেহেতু সুদূর তিমুর হতে ভারতে এসেছিলো, তাই তাদের উপর স্পষ্টতই পারস্যের সংস্কৃতির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়৷ আর এ কারণেই এ সকল বিজেতারা পারসিক সাহিত্য এবং শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন৷

মুঘল শাসন আমলে রাজ্যের শিল্পশালাগুলোতে চিত্রকর্ম তৈরি করা হত৷ ভালো ভালো আর্টিস্ট বা চিত্রশিল্পীদের রাজ দরবারে সমাদর করা হত৷ অনেকসময় একটি চিত্রকর্মের জন্য অনেক শিল্পীরা একত্রিতভাবে কাজ করতেন৷ উপমহাদেশে তথা বাংলাদেশ এবং ভারতের মুঘল আমলদের তৈরি স্থাপত্য কাজগুলো ছিল খুবই নান্দিক।

উল্লেখযোগ্য স্থাপত্যের মধ্যে রয়েছে লালবাগ কেল্লা, ঢাকা, স্থপতি শায়েস্তা খান, বড় কাটরা, চকবাজার, ঢাকা স্থপতি শাহজাদা সুজা, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থিত আফগান দূর্গ, স্থপতি শেরশাহ, সাত গম্বুজ মসজিদ, মোহাম্মদপুর, ঢাকা স্থপতি শায়েস্তা খান, তারা মসজিদ, ঢাকা, আরমানিটোলা, স্থপতি মীর্জা গোলাম পীর, ঢাকা গেইট, অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্থপতি মীর জুমলা , বিনত বিবির মসজিদ, ঢাকা স্থপতি শায়েস্তা খান ভারতে রয়েছে এয়ূর সিংহাসন, আগ্রা, দিল্লী, স্থপতি সম্রাট আকবর, লাল কেল্লা, ভারতে স্থপতি সম্রাট শাহজাহান, তাজমহল, আগ্রা, দিল্লী স্থপতি শাহজাহান, ফতেহপুর সিক্রি, বিক্রমপুর, স্থপতি আকবর, ইন্দ্রাকপুর দূর্গ অবস্থান বিক্রমপুর স্থপতি মীর জুমলা এবং অমৃতসর, পাঞ্জাবে রয়েছে সম্রাট আকবরের স্বর্ণ মন্দির সহ অসংখ্য মসজিদ রাজ দরবার স্থাপত্য যা ইসলামী শিল্পের অংশ হিসাবে নান্দিকতা ফুটে উঠেছে।

 

নেজাম উদ্দিন
চারুকলা বিভাগ- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD