Home Privacy Policy About Contact Disclimer Sitemap
নোটিশ :
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন ! সারাদেশে সংবাদদাতা নিয়োগ চলছে । যোগায়োগ করুন : ০১৭৪০৭৪৩৬২০
সংবাদ শিরোনাম :
ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ চিনিকল রক্ষায় প্রশংসনীয় উদ্যোগ কলারোয়ায় হেলাতলায় ইউনিয়নে ভোট পুনঃগননার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন রাণীশংকৈলের মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন ভাতা বঞ্চিত, ইউএনও’র কাছে আবেদন সাতক্ষীরায় মেডিকেলে কলেজে ৭ কোটি টাকার দরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উর্বরতা হারাচ্ছে উপকূলের মাটি বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে ‘রোডম্যাপ’ করতে চায় কুয়েত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি খাদে, পানিতে ডুবে প্রেমিকসহ অভিনেত্রীর মৃত্যু সাফের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা, চমক এলিটা গোপালগঞ্জে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত, ক্লাস বন্ধ আমি প্রেম করতে রাজি, মরতে রাজি না : পরীমনি
সরকারি জলমহল দখলের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে হারিয়ে যায় ২৫০ একরের বিল

সরকারি জলমহল দখলের অভিযোগ, শুষ্ক মৌসুমে হারিয়ে যায় ২৫০ একরের বিল

নাদিম হোসেন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :         ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা ৭৬৫ বিঘার একটি সরকারি জলমহল দখল করে চাষাবাদ করার অভিযোগ উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে ইজারা নেয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ব্যাপক লেকসান হয়েছে গত দুই বছরে৷ শুষ্ক মৌসুম আসলেই প্রতিবছর হারিয়ে যায় প্রায় ২৫০ একরের বিশাল বিল। দেখে বোঝার উপায় থাকেনা এখানে কোন বিল বলে কিছু আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের কাজিগ্রামস্থ বড় বিলা-ছোট বিলা জলমহলটির বিষয়ে ইজারাদার সমবায় সমিতি ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেও কোন সমাধান পায়নি। বর্তমানে চলতি শুষ্ক মৌসুমে বড় বিলা-ছোট বিলার যে মধ্যাংশে পানি থাকার কথা ছিলো, তাও জোরপূর্বক কাটিয়ে চাষাবাদ করছে অবৈধ দখলকারীরা। কাজিগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির দাবি, সরকার হয় বিল উদ্ধার করে দিবে অথবা ইজারা বাতিল করে দখলদারদের ছেড়ে দিবে। অভিযোগ রয়েছে, কয়কদফা অভিযোগ ও তদন্তের নির্দেশ আসলেও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মিজানুর রহমান দখলকারীদের থেকে উৎকোচ নিয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন।

বড় বিলা-ছোট বিলা জলমহলের ইজারাদার সংগঠন কাজিগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির উপদেষ্টা সদস্য শরিফুল ইসলাম আনসারী বলেন, দেশীয় মাছ চাষের উন্নয়ন ও সংরক্ষণের জন্য সমবায় সমিতির অধীনে মন্ত্রণালয়ে ৬ বছরের জন্য আবেদন করলে বাংলা ১৪২৬ হতে ১৪২৯ পর্যন্ত ৪ বছরের জন্য ইজারা দেয়। ইজারা নেয়ার প্রথম বছরে পানি ও মাছ সংরক্ষণে বিলে বাঁধ দিতে গেলে বাঁধা দেয় অবৈধ দখলকারীরা। গত ২ বছরে মাছ চাষ করতে পারেননি জানিয়ে তিনি আরো বলেন, প্রায় ২ কোটি ২৯ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে বিলের কোন অস্তিত্ব নেয়, বিলুপ্ত হয়ে গেছে। অথচ সরকার বাংলা ১৪২৮ সালের জন্য আবারো রাজস্ব আদায়ে চিঠি পাঠিয়েছে। আমাদের থেকে রাজস্ব নিলে বিল বুঝিয়ে দিতে হবে অথবা ইজারা বাতিল করে জামানতের টাকা ফেরত চাই।


কাজিগ্রাম মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে সকল প্রক্রিয়া মেনেই বড় বিলা-ছোট বিলা জলমহলটি ইজারা নেয়া হয়েছে। এরপরেও স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ দখলকারীদের থেকে রক্ষা করতে সহযোগিতা করছে না। স্থানীয় নেতা মজনু, মান্নানের নেতৃত্বে এই বিল দখল করে চাষাবাদ করছে। তাদের চাষাবাদে সরকার কোনভাবে লাভবান হবেনা। অথচ আমরা বিপুল পরিমাণ অর্থ রাজস্ব দিয়ে সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়েও মাছ চাষ করতে পারছি না।

মৎস্যজীবী আব্দুল করিম বলেন, ইজারা নেয়ার পর গত ২ বছরেই অবৈধ দখলকারীদের বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়েছি আমরা। তারা (দখলকারীরা) গায়ের জোরে চাষাবাদ করছে, বিলের পানি নামিয়ে নিচ্ছে। মাছ চাষ করতে দেয় না, এমনকি বর্ষা মৌসুমেও জোর করে মাছ আহরণ করে নিচ্ছে। ইজারা নিয়েও আমরা বিল থেকে বঞ্চিত হয়ে আছি।
সরকারি বিলে অবৈধভাবে চাষাবাদের কথা স্বীকার করে সাগর আলী বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকেনা, ফলে সরকারি জমি পড়ে থাকে। তাই মজনু ভাইয়ের কথায় ও নির্দেশনায় আমরা এই জমিতে ধান চাষাবাদ করি। সরকারের থেকে কোনরকম ইজারা বা অনুমোদন নেয়নি বলেও স্বীকার করেন তিনি।


সাগরের দেয়া তথ্যমতে তার মতো সকল দখলকারীদের নেতা মো. মজনু বলেন, বিলের জমিতে চাষাবাদ করছি, এটি অবৈধ। কিন্তু সাধারণ খেটে-খাওয়া কৃষকরাই, যাদের জমিজমা কিছু নাই তাদেরকে সংগঠিত করেই এসব চাষাবাদ করা হয়। বিলের মাছ মেরে নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও তিনি জানান, অন্য গ্রামের লোকজন এবছর বিলের মাছ জোর করে মেরে নিয়েছে। তবে যে শতাধিক ব্যক্তি ধান চাষাবাদ করেছে, তারা জোরপূর্বক মাছ আহরণের সাথে জড়িত নয়। এমনকি চাষাবাদের স্বার্থেই বিলের পানি ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন তিনি।

গোমস্তাপুর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো. মিজানুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে দখলের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করা হবে। দখলকারীদের সাথে নিজের যোগসাজশের বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, প্রাকৃতিক উপায়ে দেশীয় মাছ চাষাবাদ ও সংরক্ষণ করতে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও বর্ষা মৌসুমে বিলের চারদিকে বাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। জেলার সকল বিলের উন্নয়নে অধিক ছোট বিলগুলো ইজারা না দিয়ে উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। যাতে শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা চাষাবাদ করতে ও বর্ষা মৌসুমে সকল মৎস্যজীবীরা উন্মুক্তভাবে মাছ আহরণ করতে পারে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights Reserved
Developed By Cyber Planet BD